ব্লটুথ কি ও কিভাবে কাজ করে
ধরা যাক, তোমার বন্ধুর মোবাইলে একটি ছবি আছে। ইন্টারনেট ব্যবহার না করে ছবিটিকে তোমার মোবাইলে আনতে চাও। এক্ষেত্রে যদি উভয়ের মোবাইলে ব্লটুথ থাকে তাহলে ব্লটুথ ব্যবহার করে ছবিটিকে আনা যাবে। টেলিকম ভেন্ডর কোম্পানি এরিকসন ১৯৯৪ সালে এটি উদ্ভাবন করে। ডেনমার্কের রাজা হ্যারোল্ড ব্লুটুথ (Harald Bluetooth)-এর নামানুসারে ব্লটুথ নামকরণটি করা হয়েছে।
ব্লটুথ কি ও কিভাবে কাজ করে - ব্লটুথ হলো স্বল্প দূরত্বের (১০ মিটার বা ৩৩ ফিটের কাছাকাছি) ভেতর বিনা খরচে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য বহুলপ্রচলিত ওয়্যারলেস প্রযুক্তি। ব্লুটুথের সাহায্যে বিনা খরচে স্বল্প দূরত্বে থাকা আধুনিক প্রায় সকল ডিভাইস নিজেদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে বিধায় এটিকে তারবিহীন (Wireless) পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WPAN) প্রটোকল বলা হয়। এটি প্রযুক্তিগতভাবে IEEE 802.15 নামে পরিচিত। ট্র্যাডিশনাল ডেস্কটপ কম্পিউটার, যেগুলোতে ব্লুটুপ প্রযুক্তি বিল্ট-ইন থাকে না, তাদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ইউএসবি ব্লটুথ এ্যাডান্টার সংযুক্ত করে ঐ ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্লুটুথ সংযোগের সুবিধা উপভোগ করা যায়। বর্তমানে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, ট্যাব, পিডিএ, মেডিক্যাল ডিভাইস এবং বাসাবাড়ির বিনোদনের অনেক ডিভাইসে ব্লটুথ প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্লটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় তাকে পিকোনেট বলে। দুটি পাশাপাশি সিকোনেট একটি সাধারণ ব্লেড নোডের মাধ্যমে হলে এ দু'টি পিকোনেটকে একসাথে স্কার্টারনেট বলে ।।
মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ভিডিও গেম কনসোলগুলোকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করতে এবং তথ্য বিনিময় করতে ব্লুটুথ একটি জনপ্রিয় উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
ব্লুটুথ-এর ব্যবহার (Application of Bluetooth) —
১. ফোনের সাথে হ্যান্ডস ফ্রি হেডসেটের সংযোগ ঘটিয়ে সাউন্ড বা ভয়েস ডেটা স্থানান্তরে ব্লটুথ ব্যবহৃত হয়।
২. ফোন থেকে কম্পিউটারে ফাইল স্থানান্তরে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
৩. কম্পিউটারের সাথে অন্যান্য ডিভাইসের সংযোগ ঘটানো যায় এবং তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
৪. পিসির ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসগুলোর সাথে তারবিহীন যোগাযোগে ব্লটুথ ব্যবহৃত হয়।
৫. জিপিএস রিসিভার, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, বারকোড স্ক্যানার ও ট্রাফিক কন্ট্রোল ডিভাইসগুলোতে ব্লটুথ ব্যবহৃত হয়।
৬. ডেডিকেটেড টেলিহেলথ ডিভাইসগুলোতে হেলথ সেন্সর ডেটাগুলোর শর্ট রেঞ্জ ট্রান্সমিশনে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়।
৭. প্রায়ই ইনফ্রারেড ব্যবহৃত হয়, এমন স্থানে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্লটুথ ব্যবহৃত হয়।
ব্লুটুথের বৈশিষ্ট্য সুবিধা (Characteristics/ Advantages of Bluetooth) —
১. কাছাকাছি দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা স্থানান্তরে ব্লটুথ ব্যবহৃত হয়।
২. ২.৪৫ গিগাহার্টস ফ্রিকোয়েন্সিতে সিগন্যাল আদান-প্রদান করে। এর ব্যান্ডউইথ 1 Mbps.
৩. ১ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ মিটারের মধ্যে তারবিহীন ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে এবং দেয়াল বা অন্য কোনো বাধা ডেটা ট্রান্সমিশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না।
৪. ব্লটুথ হলো মাস্টার-স্লেভ কাঠামোসহ একটি প্যাকেটভিত্তিক প্রটোকল ।।
৫. একটি পিকোনেটে মোট ২৫৫টি স্লেভ নোেভ থাকে, তবে আটটি স্লেভের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং অবশিষ্ট নোডগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে।
৬. ব্লটুথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনফিগার করতে পারে।
Follow us on Facebook: https://www.facebook.com/rircoderoad/
Follow us on Twitter:
https://twitter.com/rircoderoad/

إرسال تعليق